Policy Watch
Governance, democracy, accountability, civic participation, public policy, and rights-based institutional reform.
Independent Civic-Policy Platform

Governance, Human Rights, and Public Policy Research

Civic Vision Bangladesh is an independent platform for evidence-based analysis on democratic accountability, institutional reform, minority protection, rule of law, and public policy dialogue in Bangladesh and beyond.

Governance Reform Rights Dignity & protection Policy Research & analysis

Editorial Focus

Independent analysis for democratic renewal, public accountability, civic participation, institutional trust, and evidence-based policymaking.

ResearchPolicy Studies
RightsAccountability Lens
InstitutionalReform
DynamicProfessional UI

Featured Articles & Latest Analysis

Top banner ad zone • paste AdSense unit here after approval

বাংলাদেশে নজরদারি ও সংস্কার: আইনের শাসন ও মানবাধিকার

বাংলাদেশে নজরদারি ও সংস্কার: আইনের শাসন ও মানবাধিকার বিশ্লেষণ

নজরদারি ও সংস্কারের দ্বিধা: আইনের শাসন ও মানবাধিকারের আলোকে বাংলাদেশের অবস্থান

আটটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার যৌথ বিবৃতি সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তা ও মৌলিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য আনার আহ্বান জানিয়েছে

লেখক: বিশ্লেষণ বিভাগ

প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অ্যাক্সেস নাও-সহ আটটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার একটি যৌথ বিবৃতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে নজরদারি সংস্কারকে স্থান দিয়েছে।

২৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখের এই নথিটি কেবল অভিযোগের তালিকা নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রসারের একটি আইনি ও কাঠামোগত সমালোচনা। গত এক দশকে রাষ্ট্র কীভাবে নজরদারি ও আটকানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে এবং সম্প্রতি আইনগত সংশোধনীর মাধ্যমে কীভাবে সেই সুরক্ষাগুলো দুর্বল করা হয়েছে—যৌথ বিবৃতিটি সেই বিষয়টিই তুলে ধরেছে। এই পর্যালোচনা আইনের শাসনআন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবৃতির দাবিগুলোকে পরীক্ষা করেছে এবং এর সুপারিশগুলোর জরুরিতাকে মূল্যায়ন করেছে।

সীমাহীন সম্প্রসারণের উত্তরাধিকার

২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে, সামরিক, গোয়েন্দা ও বেসামরিক আইন-প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতে নজরদারি অবকাঠামোতে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর একটি প্রতিবেদন এই তথ্যের সাথে একমত হয়ে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছে।

$১৯০ মি. নজরদারিতে ব্যয় (২০১৫-২৫)
৭.৮৫% ২০২৬-২৭ বাজেটে নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের অংশ
৳৯৪.৯৫ কোটি ২০২৬ সালের মে মাসে এনটিএমসি-তে বরাদ্দ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবকাঠামো শুধুমাত্র সন্ত্রাস দমনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের সাথে গভীরভাবে জড়িত ছিল—যার ফলে নির্বিচারে গ্রেপ্তার, জোরপূর্বক গুম এবং মতপ্রকাশের দমনের মতো ঘটনা ঘটেছে।

“নজরদারি ও গোয়েন্দা অবকাঠামো ঐতিহ্যগত জাতীয় নিরাপত্তা কার্যসীমা ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত হয়েছিল এবং এটি সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনের সাথে গভীরভাবে একীভূত ছিল।” — জাতিসংঘ ওএইচসিএইচআর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট (জুলাই/আগস্ট ২০২৪)

আইনগত প্রত্যাবর্তন: অধ্যাদেশ থেকে আইন

বিবৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে যা আইনগত প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এ কিছু পদ্ধতিগত কাঠামো ও অধিকার-ভিত্তিক ভাষা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ সেই সুরক্ষাগুলোকে সরিয়ে দেয় বা দুর্বল করে দেয়।

ধারা ৯৭এ: বিস্তৃত ক্ষমতার একটি কেস স্টাডি

যদিও ধারা ৯৭এ নজরদারি ও আটকানোর ক্ষমতা বজায় রাখে, এটি অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত জবাবদিহিতার কাঠামো, পদ্ধতিগত নির্দিষ্টতা ও স্বচ্ছতার বিধানগুলোকে বাদ দেয়। জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এখনও কোনো স্পষ্ট গণমুখী আইনি আদেশ ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে—যদিও ২০২৬ সালের মে মাসে অনলাইন কন্টেন্ট পর্যবেক্ষণ ও ব্লক করার সক্ষমতা সম্পন্ন প্রযুক্তির জন্য ৳৯৪.৯৫ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

একইসাথে, ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন, ২০২৬জাতীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬ জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছাড় প্রদান করে। বিবৃতির মতে, এই আইনগুলো একত্রে ব্যক্তিগত ডেটার সংগ্রহ ও ভাগাভাগি সক্ষম করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের (আইসিসিপিআর অনুচ্ছেদ ১৭) অধীনে গোপনীয়তার অধিকার-এর সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

আইনের শাসন বিশ্লেষণ: চাপের মুখে তিনটি স্তম্ভ

আইনের শাসনের দৃষ্টিকোণ থেকে, নথিটি তিনটি মৌলিক স্তম্ভে পদ্ধতিগত ব্যর্থতা তুলে ধরে:

১. বৈধতা ও নিশ্চিততা

নজরদারি ক্ষমতা বর্তমানে অত্যধিক বিস্তৃত প্রাথমিক আইন ও গৌণ যন্ত্রপাতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা স্বেচ্ছাচারী প্রয়োগ-এর সুযোগ তৈরি করে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ক্ষমতাগুলো প্রায়ই লাইসেন্স শর্ত বা নির্বাহী ক্ষমতার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়, যা আইনি নিশ্চিততার নীতিকে লঙ্ঘন করে।

২. ক্ষমতার পৃথকীকরণ ও বিচারিক তদারকি

নজরদারি ব্যবস্থার জন্য পূর্ব-বিচারিক অনুমোদনের অভাব একটি সুস্পষ্ট ত্রুটি। বিবৃতি স্পষ্টভাবে দাবি করে যে সমস্ত নজরদারি একটি স্বাধীন ও যোগ্য বিচারিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হওয়া উচিত। পাশাপাশি, নজরদারির পরে কার্যকর প্রতিকার—যেমন অবৈধভাবে প্রাপ্ত প্রমাণের বাতিলকরণ—এর অভাব রয়েছে।

৩. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা

সবচেয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা হলো উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ না করা, যা ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। সরকার কমিটির সুপারিশের আগেই টেলিযোগাযোগ আইন পাস করে, যা স্বচ্ছ শাসনের নীতিকে দুর্বল করে।

মানবাধিকার প্রভাব: গোপনীয়তা, মতপ্রকাশ ও যথাযথ প্রক্রিয়া

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে, যেকোনো নজরদারি আইনি, প্রয়োজনীয় ও সমানুপাতিক—এই তিনটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। বিবৃতি যুক্তি দেখায় যে বাংলাদেশের কাঠামো তিনটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছে।

  • গোপনীয়তার অধিকার: ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইনের অত্যধিক ছাড় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের জন্য একটি সামগ্রিক অব্যাহতি তৈরি করে। সংকীর্ণ ও সুনির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ছাড়া গোপনীয়তার অধিকার অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
  • মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা: জাতিসংঘের প্রতিবেদন স্পষ্টভাবে নজরদারিকে প্রতিবাদ দমন ও সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের সাথে যুক্ত করেছে। বিবৃতি সতর্ক করে যে যদি নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে তবে তা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হবে।
  • যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায্য বিচার: বিচারিক তদারকি ছাড়া নজরদারি ব্যক্তিদের বিপক্ষে ব্যবহৃত প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। বিবৃতি অবৈধভাবে প্রাপ্ত প্রমাণ বাতিল ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সংস্কারের পথ: ছয়টি সুপারিশ

যৌথ বিবৃতি ছয়টি অ-সীমাবদ্ধ সুপারিশ উপস্থাপন করে, যা জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার ও ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস-এর নির্দেশনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

  1. একটি স্বাধীন আইন সংস্কার কমিশন গঠন যা সমস্ত নজরদারি-সম্পর্কিত আইনের পর্যালোচনা করবে এবং সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
  2. একটি নতুন, সংকীর্ণভাবে প্রণীত আইনি কাঠামো প্রণয়ন যা নজরদারি ক্ষমতার সম্পূর্ণ জীবনচক্র (মোতায়েন থেকে তদারকি) নিয়ন্ত্রণ করবে, যা বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও সমানুপাতিকতার নীতির উপর ভিত্তি করে।
  3. আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি আমদানি নিয়ন্ত্রণ পূর্ব-পরীক্ষা, মানবাধিকার যথাযথ পরিশ্রম ও বিক্রেতাদের জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে, অস্বচ্ছ ক্রয় পদ্ধতি রোধ করা।
  4. কার্যকর বিচারিক তদারকি প্রতিষ্ঠা যার জন্য সমস্ত নজরদারির জন্য স্বাধীন বিচারকের পূর্ব-অনুমোদন আবশ্যক, সাথে সংকীর্ণ জরুরি পরিস্থিতির ব্যতিক্রম ও দ্রুত পর্যালোচনা।
  5. একটি স্বাধীন সংসদীয় তদারকি কমিটি তৈরি যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় সংস্থার নজরদারি কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে পারবে।
  6. ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইনের ব্যতিক্রমগুলো সংকীর্ণভাবে খসড়া করা, যাতে সেগুলো সামগ্রিক অব্যাহতি না হয় এবং অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষার অধীনে থাকে।

সংশ্লেষণ: নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিযোগী নয়, পরস্পর পরিপূরক

যৌথ বিবৃতির কেন্দ্রীয় থিসিস—যে “কার্যকর নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান পরস্পর প্রতিযোগী লক্ষ্য নয়—বরং তারা পরস্পরকে শক্তিশালী করে”—এটি কেবল আকাঙ্ক্ষামূলক নয়; এটি একটি আইনগত ও বাস্তবিক বাস্তবতা। যে রাষ্ট্র বিচারিক অনুমোদন ছাড়া নজরদারি করে, গুরুত্বপূর্ণ তদারকি প্রতিবেদন প্রকাশ করে না এবং পদ্ধতিগত সুরক্ষাগুলো সরিয়ে দেয়, সে রাষ্ট্র নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতাকেই দুর্বল করে ফেলে।

বিবৃতিতে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো যদি সঠিক হয়, তবে এটি আইনের শাসনের মারাত্মক ভাঙ্গন-এর প্রতিনিধিত্ব করে। আইনি কাঠামো জনগণের জন্য সুরক্ষা হিসেবে নয়, বরং নির্বাহী ক্ষমতাকে জবাবদিহিহীনভাবে শক্তিশালী করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ যখন তার রাজনৈতিক রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব সম্প্রদায় নজর রাখছে। সামনের পথটি স্পষ্ট: সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনে নিহিত মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষার জন্য, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সাথে স্বচ্ছ ও পরামর্শমূলক প্রক্রিয়ায় জড়িত হওয়া অপরিহার্য।

সূত্র: বাংলাদেশে নজরদারি ও আটকানো বিষয়ক যৌথ বিবৃতি (ASA 13/1357/2026) প্রকাশক: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যাক্সেস নাও প্রমুখ
Read Full Analysis

Download CVB App

CVB App Logo
Mobile Platform

Civic Vision Bangladesh App

Access policy analysis, governance insights, human rights commentary, and civic accountability content from Civic Vision Bangladesh on your mobile device.

Download APK Visit CVB

Language & Translation